ব্রাজিলের একটি প্রাক্–প্রাথমিক স্কুলে ঢুকে এক যুবক চার শিশুকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। এরপর নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে ধরনা দেন।
আজ বুধবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্লুমেনাউ শহরে এ ঘটনা ঘটে।
সান্তা ক্যাটারিনা রাজ্যের পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, আজ বুধবার সকালে গুড শেফার্ড সেন্টার নামের বেসরকারি ওই প্রাক্–প্রাথমিক স্কুলে ঢুকে ২৫ বছরের এক যুবক চার শিশুকে কুপিয়ে জখম করেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন এ ধরনের হামলা ‘দানবীয়’। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘একটি পরিবারের জন্য সন্তান বা নাতি–নাতকুরদের হারানোর মতো কষ্ট আর হতে পারে না। আর যখন এটি হয় সহিংসতার শিকার হওয়া। নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’
স্কুলের ভেতর শিশুদের খেলার জায়গাছবি: এএফপি
এ ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ হিসেবে অভিহিত করে সান্তা ক্যাটারিনা গভর্নর জর্গিনহো মেলো তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
স্কুলগুলোতে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে স্কুলগুলোতে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। গত সপ্তাহে ১৩ বছরের এক কিশোর স্কুলে ভেতর এক শিক্ষককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এসপিরিটো সান্তো রাজ্যের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলীয় শহর আরাক্রুজে গত নভেম্বরে দুটি স্কুলে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। ১৬ বছরের এক কিশোর ওই দুই স্কুলে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে চারজন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হন।
২০১৯ সালে সাও পাওলোর বাইরে সুজানোতে একটি হাইস্কুলে প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী বন্দুক নিয়ে হামলা চালায়। এতে আটজন নিহত হয়। পরে ওই দুই শিক্ষার্থীও নিজেদের জীবনও শেষ করে।
২০১১ সালে স্কুলে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়ংকর বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। রিওলেঙ্গোর শহরতলির রিও ডি জেনিরো এলাকায় এক ব্যক্তি তার প্রাক্তন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে ১২ শিশু মারা যায়। পরে হামলাকারীও আত্মহত্যা করে।
আপনার মতামত লিখুন :